কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর জান্নাতুন তাজমীন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের পর এবার আলোচনায় কক্সবাজারের হোটেল কর্মচারী রাজু চৌধুরী। ওই তরুণ তাকে ফুঁসলিয়ে কুমিল্লা থেকে কক্সবাজার নিয়ে যায়।
জেলা পুলিশের তদন্ত সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, রাজু কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করেন। ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমীনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তার ডাকে কক্সবাজার ছুটে যান ওই কিশোরী। এর আগে ৪ আগস্ট তাজমীন বাসা থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যায়। সেখান থেকে কুমিল্লায় ফিরে আবার কক্সবাজার যায়। যাওয়ার সময় বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছে বলে মাকে জানায়।
কক্সবাজার থেকে বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার প্রবেশমুখ পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানে আইকনিক এক্সপ্রেস বাস থেকে তাজমীন নেমেছে—সিসিটিভি ফুটেজে এমনটাই দেখা গেছে।
কক্সবাজারের কক্স প্যানোরামিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর এজেন্সির ম্যানেজার আবদুল্লাহ বলেন, বুধবার কুমিল্লায় ফেরার জন্য মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে তাজমীন বন্ধু রাজুসহ বাসের টিকিট কাটতে আমাদের কাউন্টারে আসে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে আইকনিক এক্সপ্রেসের বাসটি কুমিল্লার উদ্দেশে কক্সবাজার ছাড়ে। রাতে হোটেল নূরজাহানে এসে পৌঁছায়। বাসটি ঢাকা পর্যন্ত চলাচল করে।
আবদুল্লাহ বলেন, ঘটনাটি আলোচনায় আসার পর সিসিটিভি ফুটেজ টেনে ওই কিশোরীর ফুটেজ সংগ্রহে রেখেছি। পুলিশ চাইলেই যেকোনো সময় তা সরবরাহ করা হবে।
এদিকে ঘটনার পর তাজমীনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে মেয়ের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তখন তাজমীন জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে আছে। মা বান্ধবীর বাড়িতে গিয়ে তাকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। কেয়া খাতুন মেয়ের কাছে বান্ধবীর নাম ও তার মা-বাবার পরিচয় জানতে চাইলেও সে কিছু জানায়নি।
মেয়ের বন্ধুবান্ধব নিয়ে আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন তাজমীনের মা। কোনো অঘটন ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে প্রায় ছয় মাস মেয়েকে স্কুলে যেতে দেননি তিনি। মেয়েকে চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করতেন। জানতে চাইতেন তার চলাফেরা ও বন্ধুত্বের বিষয়ে। কিন্তু এত সতর্কতার পরও শেষ পর্যন্ত মেয়েকে রক্ষা করতে পারেননি তিনি।
এদিকে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যে বান্ধবীকে দুষছেন তাজমীনের মা, তিনি তার চেয়ে বয়সে বড়। হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা এখনো মেলেনি। তবে মেয়ে অবাধ্য হয়ে উঠেছিল। পাবজি বা ফ্রি ফায়ারের মতো মোবাইল গেমে আসক্ত ছিল।
তাজমীনের শিক্ষক সাদ বিন এরশাদ বলেন, আমি তাকে দীর্ঘদিন পড়িয়েছি। সে খুবই চঞ্চল স্বভাবের ছিল। তার মা অসুস্থ হলে দুই যমজ ছোট ভাইয়ের দেখভাল করত তাজমীন। তার বাবা একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। এ কারণে তার বাবা সকালে বাসা থেকে বের হলে রাতে ফিরতেন। তবে বাবা তাজমীনকে খুব আদর করতেন। রাগ হলে সে হুটহাট করে বাসা থেকে বের হয়ে যেত।
পুলিশ বলেছে, ঘাতক একজনই, সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিও দিয়েছে।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজারের বাস থেকে পদুয়ারবাজারের হোটেল নূরজাহানে নেমে শহরের রেইসকোর্সের বাসায় যেতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমীন। গ্রেফতার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন ঘটনাস্থলে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানখেত থেকে তাজমীনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
কপি - দৈনিক যুগান্তর
মতামত