দেশের আর্থিক অবস্থা নাজুক দাবি করে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হলে সবার ওপর প্রভাব পড়বে। বিরোধী দল হিসেবে সরকারকে কল্যাণের পথে নিয়ে যাওয়া তাদের কাজ। সেটাই তারা করছেন।
গতকাল শনিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তিনি এমন অভিমত তুলে ধরেন। বৈঠক শেষে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এর আগে কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, মঈনুল ইসলাম খান, শাহাদাত হোসেন, সাইফুল আলম খান মিলন এবং সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।
বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে ব্যাংক রেজুলেশন (সংশোধন) বিল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিলটি পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করে সংশোধিত আকারে সংসদে পাসের জন্য বৈঠকে সুপারিশ করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশে একীভূত হওয়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুরোনো ও বিতর্কিত মালিকদের ফেরার সুযোগ ছিল না। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশটির এমন ধারা বাতিল করে পুরোনো মালিকদের ফেরার সুযোগ দিয়ে আইনে পরিণত করা হয়। আইনটি পাশের দিন সংসদে ধারাটি যুক্ত করা নিয়ে আপত্তি করেছিল বিরোধী দল। বিতর্কিত ধারাটি যুক্ত করা নিয়ে সংসদ ও সংসদের বাইরে সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। এমনকি উন্নয়ন সহযোগীরাও এতে আপত্তি জানায়। সবার আপত্তির মুখে আইনের ১৮ (ক) ধারা বাতিল করে সংশোধনী অনুমোদন হয় গত ১০ আগস্টের মন্ত্রিসভার বৈঠকে। এর পর ৩ সেপ্টেম্বর সংশোধনী বিলটি সংসদে উত্থান করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
বৈঠকের এজেন্ডায় শুধু ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ১৮ (ক) ধারা বাতিলের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ছিল বলে উল্লেখ করেছেন কমিটির সদস্য ও জামায়াতের এমপি সাইফুল আলম। তিনি জানান, আইনের এই ধারাটি নিয়ে পত্রপত্রিকায় অনেক লেখালেখি হয়েছে। আইএমএফ থেকে ঋণের শর্ত হিসেবে এটা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে এ ধারা পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। যত দূর বোঝা যাচ্ছে, অর্থমন্ত্রী দুয়েক দিনের মধ্যে বাইরে (বিদেশে) যাবেন। এ কারণে তড়িঘড়ি করে এটা করছেন। বৈঠকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের শেয়ার-সংক্রান্ত মামলাটা হাইকোর্টে আছে। এ মামলার আইনজীবীকে পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ডেপুটি গভর্নরের মাধ্যমে চাপ দেওয়া হয়েছে।