নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে মহামান্য উচ্চ আদালতের নির্দেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অপচিকিৎসা ও রমরমা প্রতারণা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মানিক ওরফে 'মানিক খোনা' নামের এক ভুয়া কবিরাজের বিরুদ্ধে। প্রাতিষ্ঠানিক কোনো চিকিৎসাবিদ্যা বা সনদ না থাকলেও বিভিন্ন জটিল রোগ থেকে মুক্তি দেওয়ার আশ্বাসে পানিপড়া ও তাবিজ-কবজের মাধ্যমে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে সে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনাইমুড়ী উপজেলার হাটগাঁও গ্রামের মৃত মোজাফফর আহমেদের পুত্র মানিক খোনা দীর্ঘ দিন ধরে ভুয়া লাইসেন্স প্রদর্শন করে এই অপচিকিৎসা চালিয়ে আসছেন। তার বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) বা স্বীকৃত কোনো আয়ুর্বেদিক/ইউনানী বোর্ডের ন্যূনতম কোনো নিবন্ধন নেই। ফলে তার এই ভুয়া চিকিৎসায় স্বাস্থ্য ও জীবনের মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছেন প্রতিদিন আসা হাজারো সাধারণ রোগী।
উচ্চ আদালতের নির্দেশ ও অতীতের ঘটনা:
বাংলাদেশে প্রচলিত আইন ও হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী অনিবন্ধিত কবিরাজি বা তান্ত্রিক চিকিৎসা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৭ সালে হাটগাঁও গ্রামের মৌলভী আব্দুল খালেকের পুত্র গোলাম ফারুক মানিক খোনারের ভুয়া কবিরাজি বন্ধের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন (নং ২৩৫৪/১৭) দাখিল করেন।
রিটের প্রেক্ষিতে তৎকালীন সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ফয়সাল সরেজমিনে গিয়ে তার আস্তানা বন্ধের নির্দেশ দেন এবং ২০১৭ সালের ১৮ নভেম্বর বিজ্ঞ আদালতে মতামত দাখিল করেন। পরবর্তীতে আদালত অমান্য করে কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে ২০১৭ সালের ৩ জানুয়ারি তৎকালীন ইউএনও অভিযান চালিয়ে মানিক খোনাকে গ্রেপ্তার করেন।
তবে গ্রেপ্তারের পর তার অনুগত বাহিনী ইউএনওর গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে বোমা ফাটিয়ে তাণ্ডব সৃষ্টি করে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ এসে সহযোগী মিম ও মিলন নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। সে সময় আদালত মিলনকে ৩ মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং ভুয়া চিকিৎসালয়টি বন্ধের নির্দেশ দেন। তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইশরাত জাহান আস্তানাটি সিলগালা করে দিলে ভবিষ্যতে এই কাজ করবে না মর্মে মুচলেকা দেয় মানিক খোনা।
আইনগত বাধা, সিলগালা ও মুচলেকা দেওয়ার পরও থেমে নেই তার অপচিকিৎসার নেটওয়ার্ক। আইনের তোয়াক্কা না করে অবাধে চালিয়ে যাচ্ছেন এই প্রতারণা।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মানিক খোনার মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরিন আক্তার বলেন, "তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো অন্ত নেই। এর আগেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তবুও সে কীভাবে আইন অমান্য করে ভুয়া কবিরাজি চালিয়ে যাচ্ছে তা খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"