নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড সুন্দরপুর পাটোয়ারী বাড়ির বাসিন্দা চা দোকানদার মোঃ আবু ইউসুফ (৫২), তার স্ত্রী খুরশিদা বেগম (৪০), ছেলে ওসমান গনি (১৭) এর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ব্যাপারে চা দোকানদার মোঃ আবু ইউসুফ বাদী হয়ে গতকাল বুধবার দুপুরে চাটখিল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, মোঃ ইউসুফ এর ছেলে ওসমান গনির সাথে দশানী টবগা গ্রামের রমিজ উদ্দিন বেপারী বাড়ির মোঃ রায়হান (৩৭) এর মেয়ে রাবেয়া আক্তার রাহা (১৪) এর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরবর্তীতে তারা গত ২৪ আগস্ট নোয়াখালী কোর্টে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করে। বিষয়টি আমরা কেউ জানতাম না বলে আবু ইউসুফ জানান। এই ঘটনার পরের দিন (২৫ আগস্ট) মেয়ের বাবা মা সহ পরিবারের লোকজন আমাদের বাড়িতে এসে এই ঘটনা জানায় এবং তারা এই বিয়ে মেনে নিবেন বলে আশ্বাস দিয়ে আমাদের বাড়িতে অবস্থান করতে থাকে। আমি তখন বিভিন্নভাবে খোঁজখবর নিয়ে ছেলের সন্ধান পাই। তখন তাকে রাবেয়া আক্তার রাহা কে নিয়ে বাড়িতে আসার জন্য বলি। সে রাবেয়া আক্তার রাহা কে নিয়ে বাড়িতে আসে। স্থানীয় কাউন্সিলর ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সামনে লিখিত স্টাম্পের মাধ্যমে আপোষ মিমাংসা করে তাদের মেয়েকে নিয়ে রাহার বাবা-মা তাকে নিয়ে চলে যায়। এই ঘটনার দুইদিন পর মেয়ে সন্ধ্যায় তাদের বাড়িতে চলে আসে। তখন তাঁকে চলে যাওয়ার জন্য আমরা বারবার অনুরোধ করলেও মেয়ে যেতে রাজি হচ্ছে না। তখন আমরা নিরুপায় হয়ে মেয়েটি কে সাংবাদিক মোঃ হাবিবুর রহমানের বাড়িতে নিয়ে আশ্রয় দেওয়ার জন্য রেখে আসি। এরপর মেয়ে পক্ষ ঘটনা জানতে পেরে মেয়েকে নেওয়ার জন্য মেয়ের বাবা-মা সহ হাবিব সাংবাদিকের বাড়িতে আসে। কিন্তু মেয়ে বাড়ির একটি কক্ষে দরজা বন্ধ করে রাখে। তারা মা বাবা ও আত্মীয়স্বজন তাকে নেওয়ার জন্য সারারাত চেষ্টা করে, কিন্তু সে যেতে রাজি হয়নি। সে বলে আমি আমার স্বামীর বাড়িতে স্বেচ্ছায় এসেছি আমি যাবনা। পরের দিন সকালে থানা পুলিশ এসে মেয়েটিকে তার ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করার আশ্বাস দিয়ে থানা নিয়ে যায়। পরে রাহাকে পুলিশ তারা বাবা মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়।
এই ঘটনার পর রাহার বাবা-মা নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে আমি, আমার স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। আমি এবং আমার স্ত্রী জামিনে আসি। আমি এই মিথ্যা মামলায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের কারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবী জানাচ্ছি।
এই বিষয়ে মেয়ের বাবা মোঃ রায়হান এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
এই ব্যাপারে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মোন্নাফ অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।