নোয়াখালীর চাটখিলে মানব পাচার মামলায় ছাত্রদল নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা থেকে নোয়াখালীর চাটখিলের একটি চাঞ্চল্যকর মানব পাচার মামলার প্রধান আসামি এবং স্থানীয় ছাত্রদল নেতা মোঃ আজাদ (৩৫) কে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১১)। আজ শনিবার চাটখিল থানা পুলিশ গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে নোয়াখালীর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আজাদ উপজেলার শংকরপুর গ্রামের কবিরাজ বাড়ির সামছুল হকের ছেলে এবং খিলপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি।
এসআরবি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার রাতে এসআরবি-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর একটি বিশেষ অভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএমপি ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানাধীন দোলাইরপাড় মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই মামলার এক নম্বর আসামি আজাদকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার বিবরণ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোঃ সোলেমান একজন ইতালি প্রবাসী। তার বাড়ি চাটখিলের খিলপাড়ায়। তিনি ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে ২০২৩ সালে আসামিদের নিকট বিভিন্ন সময়ে মোট ১০ লাখ টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাদীকে দুবাই হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছানো হলে, ছাত্রদল নেতা আজাদসহ মানব পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্যরা তাকে জিম্মি করে লিবিয়ার অন্য একটি উগ্র পাচারকারী চক্রের নিকট বিক্রি করে দেয়। সেখানে চক্রের সদস্যরা বাদীর ওপর বর্বর শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং মুক্তিপণ হিসেবে ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করে। পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে বাদী তার পরিবারের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ঋণ নিয়ে এবং তার স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সেই টাকা পরিশোধ করে মুক্তি পান।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবদুল মোন্নাফ জানান, ভুক্তভোগী প্রবাসীর এজাহারের ভিত্তিতে চাটখিল থানায় মামলাটি রুজু করা হয়েছিল। মানব পাচারের পর ভুক্তভোগী দেশে ছুটিতে আসলে আসামিরা তাকে মারধর ও আরো অর্থ দাবি করার অভিযোগও রয়েছে। এসআরবি-১১ এর সহযোগিতায় প্রধান আসামিকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তারের পর যাত্রাবাড়ী থানার মাধ্যমে আমাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়। আজ শনিবার তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।