টানা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ মঙ্গলবার থেকে পর্যটক ও জেলে-বাওয়ালিদের জন্য খুলেছে সুন্দরবনের দ্বার। তবে প্রথম দিনে সকাল থেকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কমসংখ্যক বনজীবী ও পর্যটক সুন্দরবনে গেছেন।বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশন থেকে এ মৌসুমে প্রায় তিন হাজার বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) নবায়ন করা হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সুন্দরবনের চারটি স্টেশন থেকে আজ বেলা ৩টা পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক জেলে-বাওয়ালি সুন্দরবনে প্রবেশ করেছেন। সকাল থেকে প্রচুর বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বিরাজ করায় অল্প কিছুসংখ্যক পর্যটক কলাগাছি পর্যটন কেন্দ্রে গেছেন।শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ এলাকার জেলে শহিদুল ইসলাম বলেন, ঝড়-বৃষ্টি থাকলেও সুন্দরবনে যেতে হবে। বন থেকে কাঁকড়া ধরে সংসার চালাতে হবে।কুষ্টিয়া থেকে এসেছেন পর্যটক ইমরান হোসেন। তিনি বলেন, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনভূমির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে তাঁরা এসেছেন। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে আজ তাঁরা যাননি। আগামীকাল বুধবার সুন্দরবনে যাবেন।সুন্দরবনে জেলেদের নিরাপত্তার বিষয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, সাধারণত নিষেধাজ্ঞার পর প্রথম দিনে দুই হাজারের মতো বনজীবী ও পর্যটক বনে যান। তবে এবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে তুলনামূলক কমসংখ্যক মানুষ বনে গেছেন।রেঞ্জ কর্মকর্তা মশিউর রহমান আরও জানান, কোস্ট গার্ডের সঙ্গে বন বিভাগের যৌথ টহল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দস্যুদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া গেলে কোস্ট গার্ডের সহায়তায় তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে বন বিভাগের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।মশিউর রহমান আরও বলেন, ‘র্যাবের কাছে ইতিমধ্যে চারটি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। আশা করা যাচ্ছে, এ মৌসুমে জলদস্যুদের উৎপাত তেমন থাকবে না।’
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।